সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত
"কোনো একদিন হযরত জিবরাঈল (আঃ) নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে বসে ছিলেন। হঠাৎ প্রচন্ড একটি শব্দ শোনা গেলো । হযরত জিবরাঈল (আঃ) নিজের মাথা উচু করে বললেন, এটা আকাশের সেই দরজা খোলার শব্দ যা আজকের পূর্বে আর কখনো খোলা হয়নি। উক্ত দরজা দিয়ে একজন ফিরিশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন, যিনি ইতোপূর্বে আর কখনো পৃথিবীতে আগমন করেননি । সে ফিরিশতা নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, আপনার জন্যে দুটো নূরের সুসংবাদ রয়েছে। সূরাতুল ফাতিহা এবং সূরাতুল বাকারার শেষ দুটো আয়াত উক্ত দুটো নূর । যা আপনার পূর্বে অন্য কোনো নবীকে প্রদান করা হয়নি। সূরা ফাতিহা এবং সূরাতুল বাকারার শেষ দুটো আয়াত থেকে একটি অক্ষরও পড়ে আল্লাহ তা'য়ালার কাছে আপনি যা কিছু প্রার্থনা করবেন তা প্রদান করা হবে ।” (মুসলিম, হাদীস নং- ৮০৬) . 👉নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যামীন সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন। সেই কিতাব হতে তিনি দু‘টি আয়াত নাযিল করছেন। সেই দু‘টি আয়াতের মাধ্যমেই সূরা আল-বাক্বারা সমাপ্ত করেছেন। যে ঘরে তিন রাত এ দু‘টি আয়াত তিলাওয়াত করা হয় শাইতান সেই ঘরের নিকট আসতে পারে না। (তিরমিজি— ২৮৮২) 👉জুবায়র ইবনু নুফায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সূরা আল বাকারাকে আল্লাহ তা‘আলা এমন দু’টি আয়াত দ্বারা শেষ করেছেন, যা আমাকে আল্লাহর ‘আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে দান করা হয়েছে। তাই তোমরা এ আয়াতগুলোকে শিখবে। তোমাদের রমণীকুলকেও শিখাবে। কারণ এ আয়াতগুলো হচ্ছে রহমত, (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের উপায়। (দীন দুনিয়ার সকল) কল্যাণলাভের দু‘আ। (মিশকাত— ২১৭৩) . 👉বাদ্রী সাহাবী আবূ মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, সূরা বাকারার শেষে এমন দু’টি আয়াত রয়েছে যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াত দু’টি তিলাওয়াত করবে তার জন্য এ আয়াত দু’টোই যথেষ্ট। অর্থাৎ রাত্রে কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করার যে হক রয়েছে, কমপক্ষে সূরাহ বাকারার শেষ দু’টি আয়াত তেলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট। (সহিহ বুখারী— ৪০০৮)

Comments

Popular posts from this blog

নামাজ সংক্রান্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস